তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে পণ্য রফতানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, আর সেবা রফতানি থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে।’
গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চলতি অর্থবছরের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ-সংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। এ সময় বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং প্রধান প্রধান রফতানি খাতের সংগঠনের নেতা ও অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ অর্থবছরে যেটা আমাদের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা, সেটি হচ্ছে পণ্যের ক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং সেবার ক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। যদি আমরা সেটা অর্জন করতে পারি, তাহলে রফতানির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন। তাতে পণ্য হবে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন এবং সেবা হবে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন। পণ্য এবং সেবা মিলিয়ে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন হচ্ছে আমাদের এ অর্থবছরের রফতানির ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা।’ তিনি বলেন, ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি আয় আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর সেবা খাত থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় এসেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সাউথ কোরিয়াসহ কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয়টি দেশের সঙ্গে এফটিএ হবে। প্রধান রফতানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনাও শুরু হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মার্কিন শুল্ক পরিস্থিতিতে বাস্তবিক কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রথমে ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক (রেসিপ্রোকাল) শুল্ক ঘোষণা করা হলেও পরে তা ১৯ শতাংশে নামানো হয়। পরবর্তী সময়ে মার্কিন উচ্চ আদালতের এক রায়ের পর সেটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেকশন ১২২-এর অধীনে ব্যালান্স অব পেমেন্টের কারণ দেখিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পান, যা সর্বোচ্চ পাঁচ মাস কার্যকর থাকতে পারে এবং পরে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সেকশন ৩০১-এর আওতায় শ্রম-সংক্রান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাস্তবে করের হারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের ১০ শতাংশ শুল্কের জায়গায় নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে একই ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে। এটি কেবল বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, প্রায় ৬০টি দেশের ওপর একই ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে, যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যও রয়েছে।’
রফতানি বহুমুখীকরণ বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘পোশাক শিল্প থেকে রফতানি আয়ের ৮৫ শতাংশ আসে। কোনো দেশের জন্যই এটি স্বস্তিকর বা সুখকর নয়। এজন্য সম্ভাবনাময় অন্য খাতে রফতানি বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলো আপনারা শিগগিরই দেখতে পারবেন। আমরা চাই তৈরি পোশাক খাত থেকে ৮০ বিলিয়ন ডলারের রফতানি হোক। পাশাপাশি অন্য খাতগুলো থেকেও যাতে ১০০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় আসে।’
জ্বালানি সংকট নিয়ে এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘বাস্তবতা তো বাস্তবতাই। দেশের মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, সেটি আর বাড়ানোর সুযোগ নেই। ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এ দিয়ে এর বেশি এলএনজি আমদানি করা সম্ভব না। ফলে রাতারাতি জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’
জাপানের সঙ্গে করা ইপিএ কবে থেকে কার্যকর হবে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকটি চুক্তি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে হয়। আগামী অধিবেশনে জাপানের সঙ্গে করা চুক্তিটি উপস্থাপন করা হবে। এরপর সেটি কার্যকর হবে।’